Header Ads

Header ADS

স্বালাত অর্থাৎ নামাজ আদায় করার পদ্ধতি

(সালাত অর্থাৎ নামাজ আদায় করার পদ্ধতি)
♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠♠

আল্লাহ সুবাহানাহু তায়ালা বলেন,,
আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য সালাত আদায় করুন। /সূরা কাউছার আয়াত ২/
এখানে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য সালাত আদায় করতে বলেছেন,  কিন্তু কিভাবে সালাত আদায় করতে হবে তা কোরআন মাজীদের কোথাও বলা হয়নি, তা বলা আছে শুধু হাদিসে। 

তাই সহীহ হাদিস ভিত্তিক দলিলসহ দেওয়া হল,,, আপনার ইচ্ছা হলে মানবেন আর না হলে নাই । কারন আপনার জবাব আপনি দিবেন আর আমার জবাব আমি দিবো।

তবে মনে রাখবেন একটি কথা, আল্লাহ তায়ালা একশ্রেনী সালাত আদায়কারীকে অর্থাৎ নামাজিকে ওয়েলনামক জাহান্নামে যাবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন, কারন,তারা নামাজের প্রতি উদাসিন থাকবে অর্থাৎ নামাজ পড়বে ঠিক কিন্তু 
রাসূল (সঃ) এর পদ্দতি মুতাবেক পড়বেনা, তাই তারা জাহান্নামে যাবে। 
দলিল / সূরা মাউন আয়াত ৩"৪/

তাই এখন কি করবেন সেটা আপনার ইচ্ছা, হয় মেনে নিবেন, না হয় মুখ ফিরিয়ে চলে যাবেন।
তবে যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারাই উপদেশ গ্রোহন করবে, আর যারা হতোভাগা অর্থাৎ জাহান্নামি, তারাই মুখ ফিরিয়ে নিবেন। প্রোমান, 
/সূরা আ"লা আয়াত ১১"১২"১৩/
***************************************
সালাতের ব্যাপারে রাসূল (সঃ) বলেছেন, 
তোমরা ঠিক সেভাবে সালাত আদায় কর, যেভাবে আমাকে দেখেছো।
/ বোখারী, মিসকাত হাঃ ৬৮৩/

তাই সংখেপে তাকবীর থেকে সালাম পর্যন্ত :
""""""'"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
১. সালাতের শুরুতে মুখে নিয়ত (নাওয়াইতুয়ান...) বলা বিদআত। মনে মনে নিয়ত করতে হবে (বুখারী-১ মিশকাত-১)
***জায়নামাজে দাঁড়িয়ে "ইন্নি ওয়াজ্জাহতু...পড়া বিদআত। (তবে সানা হিসেবে নিয়ত বাধাঁর পর পড়া যাবে)

২.ক্বিবলামুখী হয়ে "আল্লাহু আকবার'' বলে দুই হাত কাঁধ বা কান বরাবর উঠাবে (কিন্তু কান স্পর্শ করবে না)(বুখারী ৭৩৫ মিশকাত ৭৯০,৭৯৩)

৩.বাম হাতের উপর ডান হাত বুকের উপর রাখবে (আবু দাউদ ৭৫৯ বুখারী ৭৪০)

৪.জামাতের সাথে সালাত আদায় করলে কাতারের মাঝে পরস্পরের পায়ের সাথে পা, টাখনুর সাথে টাখনু এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াবে। (দুইজন মুছল্লীর মাঝে ফাঁক রাখা সুন্নাত বিরুধী) (বুখারী ৭২৫ মিশকাত ১১০২)

৫.সিজদার স্থান বা তার কাছাকাছি সীমার মধ্যে দৃষ্টি রাখবে।(হাকেম ১৭৬১)
-
৬.ছানা পাঠ করবে "আল্লাহুম্মা বাইদ বায়নী"(বুখারী ৭৪৪) অথবা "সুবাহানাকা" (মুসলিম) অথবা "ইন্নি ওয়াজ্জাহতু"

৭..ক))আঊযুবিল্লাহ -বিসমিল্লাহ সহ সূরা ফাতিহা পাঠ করবে (বুখারী ৭৫৬ ইবনে মাজাহ ৮৪৩ মুসলিম ৯০৪ মিশকাত ৮২৩)
খ)).পরের রাক'আত গুলোতে বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।
গ))মুছল্লী একাকী হলে বা যোহর ও আছর সালাতে ইমামের পিছনে প্রথম দুই রাক'আতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা বা কিছু আয়াত পাঠ করবে।পরের দুই রাক'আতে শুধু সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।

৮. সূরা ফাতিহা শেষে আমিন বলবে।ইমামের পিছনে জেহরী সালাতে সূরা ফাতিহা শেষে উচ্চস্বরে আমিন বলবে (আবু দাউদ ৯৩২,৯৩৩ তিরমিযী ২৪৮ ইবনে মাজাহ ৮৫৬ বুখারী ৭৮০)
-
৯.ক্বিরা'আত শেষে "আল্লাহু আকবার" বলে দুই হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উঠিয়ে (রাফউল ইয়াদায়েন করে) রুকুতে যাবে।(বুখারী ৭৩৫-৭৩৯)
-
১০.দুই হাত দ্বারা দুই হাঁটু শক্ত করে ধরে ভর দিয়ে পিঠ ও মাথা সোজা রাখবে। হাঁটুসহ দুই পা ও সোজা রাখবে। হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা রাখবে।(বুখারী ৮২৮ মিশকাত ৭৯১,২)
-
১১.অত:পর কমপক্ষে ৩ বার সুবহানা রব্বিয়াল আযীম পড়বে।(মিশকাত ৮৮১)
-
১২.রুকু থেকে উঠার সময় "সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ" বলবে।(বুখারী ৭৯৫)
-
১৩.অত:পর রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে প্রশান্তির সাথে দাঁড়াবে এবং কাঁধ বা কান বরাবর দুই হাত উঠিয়ে "রাফউল ইয়াদায়েন " করবে।(বুখারী ৭৩৫-৭৩৯)
-
১৪.তারপর বলবে "রব্বানা লাকাল হামদ"(বুখারী ৭৩৩) অথবা "রব্বানা লাকাল হামদ হামদান কাছীরান ত্বাইয়িবাম মুবারাকা ফীহি (মিশকাত ৮৭৭)
-
১৫.রাসূল (সা:) রুকু থেকে উঠে এমনভাবে দাঁড়াতেন যে মেরুদন্ডের হাড় যথাস্থানে ফিরে আসত।(বুখারী ৮০০)
-
১৬.রাসূল (সা:) এর রুকু, সিজদা,রুকু থেকে মাথা উঠানো,দুই সিজদাহের মধ্যবর্তী সময় প্রায় সমান হত।(বুখারী ৮০১)
-
১৭.তারপর আল্লাহু আকবার বলে প্রথমে দুই হাত ও পরে দুই হাঁটু মাটিতে রেখে সিজদায় যাবে (মিশকাত ৮৯৯ আবু দাউদ ৮৪০)
-
১৮.হাত দুইটি ক্বিবলামুখী করে মাথার দুই পাশে কাঁধ বরাবর রাখবে। হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিয়ে রাখবে।(বুলগুল মারাম ২৯৭)
-
১৯.কনুই উঁচু রাখবে ও বগল ফাঁকা রাখবে (বুখারী ৮০৭)
-
২০.সিজদা লম্বা হবে ও পিঠ সোজা থাকবে। যেন নীচ দিয়ে একটি বকরীর বাচ্চা যাওয়ার মত ফাঁকা থাকে।(মিশকাত ৮৯০)
-
২১.দুই পা খাড়া করে এক সাথে মিলিয়ে রাখবে (মিশকাত ৮৯৩) এ সময় আঙ্গুলগুলো ক্বিবলামুখী করে রাখবে (বুখারী ৮২৭)
-
২২.কমপক্ষে ৩ বার "সুবহানা রব্বিয়াল আলা" বলবে (ইবনু মাজাহ ৮৮৮)
-
২৩.সিজদা থেকে উঠে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে ও ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখবে। এ সময় প্রশান্তির সাথে বসবে।
-
২৪. দুই সিজদাহের মাঝখানে বলবে "রব্বিগফিরলী,রব্বিগফিরলী(মিশকাত ৯০১) অথবা "আল্লাহুম্মা গফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াজবুরনী, ওয়াদিনী, ওয়াআফিনী, ওয়ারযুক্বনী" (মিশকাত ৯০০ তিরমিযী ২৮৪)
-
২৫.তারপর "আল্লাহু আকবার" বলে ২য় সিজদায় যাবে ও দু'আ পড়বে।২য় ও ৪র্থ রাক'আতে দাঁড়ানোর সময় সিজদা থেকে উঠে শান্তভাবে বসবে।তারপর মাটিতে দুই হাত রেখে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে।(বুখারী ৮২৩)
-
২৬.রাসূল (সা:) ২য় সিজদাহ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে না বসে দাড়াতেন না (বুখারী ৮০২)
-
২৭.২য় রাক'আত শেষ করার পর বৈঠকে বসবে। ১ম বৈঠক হলে কেবল ''আত্তাহিয়াতু " পড়বে।(মিশকাত ৭৯১)
-
২৮.১ম বৈঠক শেষে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁধ বা কান বরাবর দুই হাত উঠিয়ে "রাফউল ইয়াদায়েন " করবে।(বুখারী ৭৩৫-৭৩৯)
-
২৯.শেষ বৈঠক হলে 'আত্তাহিয়াতু ,দরুদ, দু'আয়ে মাছূরা পড়বে।(বুখারী ৮৩৫)
-
৩০.১ম বৈঠকে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে এবং শেষ বৈঠকে ডান পায়ের তলা দিয়ে বাম পায়ের অগ্রভাগ বের করে নিতম্বের উপরে বসবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে ও আঙ্গুলগুলো ক্বিবলামুখী করবে। (বুখারী ৮২৮ মিশকাত ৭৯২)।
-
৩১.বৈঠকে ডান হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল মধ্যমা আঙ্গুলের পিঠে রেখে মুষ্টিবদ্ধ করে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত ইশারা করবে।(মুসলিম ১১৯৪-৯৮, মিশকাত ৯০৬,৮,১১,১৩,১৭)
***‘আশহাদু আল্লাহ ইলাহা’ বলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে আবার ইল্লাল্লাহু বলে টুপ করে নামিয়ে ফেলার কোন দলিল নেই।
-
৩২.এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দিকে দৃষ্টি রাখবে। (নাসাঈ ১২৭৫)
-
৩৩.তারপর "আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" বলে ডানে ও বামে সালাম ফিরাবে।(বুখারী ৮৩৪)
-
৩৪.সালাম ফিরিয়ে প্রথমে সরবে ১বার "আল্লাহু আকবার" ও ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলবে এবং হাদিসে বর্ণিত দু'আ গুলো পড়বে✅
***ফরয নামায শেষে সম্মিলিত মুনাজাতের দলিল নেই❎

যদি কোনো জায়গায় বুঝতে কষ্ট হয়, তাহলে ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন, আর না হয় সহীহ প্রোমান সহ কোনো আলেম থেকে জেনে নিবেন।

No comments

Powered by Blogger.