Header Ads

Header ADS

বিয়ে, রিজিক লাভ (জীবিকা-চাকুরী/ ব্যবসা) , ডিপ্রেশন ইত্যাদি জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের উপায়ঃ

বিয়ে, রিজিক লাভ (জীবিকা-চাকুরী/ ব্যবসা) , ডিপ্রেশন ইত্যাদি জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের উপায়ঃ
________________________________

কোরআনে অনেক বার আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের নসীহত দিয়েছেন যে মুমিনরা যেন কোরআনের আয়াত গুলো নিয়ে চিন্তা করে দেখে। 

অনেক কিছুই কোরআনে প্রত্যক্ষ ভাবে আসেনি, কিন্তু পরোক্ষ ভাবে আল্লাহ তায়ালা অনেক কিছুর সমাধানই সেখানে রেখেছেন তাঁর বান্দাদের জন্য। বান্দাদের তা খুঁজে বুঝে নিতে হবে।  

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا. يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا. وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَارًا

নুহ (আ.) বললেন 

‘তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তেগফার করো। (ক্ষমা চাও) নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বারিধারা বর্ষণ করবেন। তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধির মাধ্যমে তোমাদের সাহায্য করবেন। তোমাদের জন্যে উদ্যান তৈরি করবেন, তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সূরা: নূহ, আয়াত ১০-১২)

আসুন আমরা চিন্তা করে দেখি এই আয়াত নিয়েই।

এই আয়াতের দ্বারা আমরা ইস্তেগফার এর যেসব উপকারিতা জানতে পারলাম। তার মধ্যে দুটি হচ্ছে 

(১) রিজিক বৃদ্ধি 
(২) সন্তান লাভ


(১) রিজিক বলতে কী বুঝায়?

এবং আল্লাহ তায়ালা যাকে চান, তাকে অপরিমিত রিযিক দান করেন। [সূরা বাকারাঃ ২১২]
.
অনেকে মনে করে রিজিক মানে 'খাদ্য' এটা ভুল। বরং রিজিক হলো আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত মানুষের জীবন ধারনের সমস্ত ব্যাবস্থা যা তিনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, করুনা করে আমাদের দিয়েছেন।
.
শুধু খাদ্য নয়, জীবনে চলতে গেলে যা যা লাগে যেমন নিঃশ্বাস, বাসস্থান, ক্যারিয়ার, উপার্জন, স্ত্রী, বাচ্চা কাচ্চা, পোশাক, মোবাইল, জুতা স্যান্ডেল ইত্যাদি সবই রিজিকের অন্তর্ভুক্ত। যদি আপনার চলতে গেলে হাত ঘড়ি লাগে সেটাও আপনার রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
আবার রিজিক কেবল ইহকাল না পরকালের সাথেও সমন্ধনীয়।
.
(২) সন্তান লাভঃ

যেহেতু সন্তান বিয়ের মাধ্যমেই হয়। সুতরাং ইস্তেগফারের দ্বারা বিয়ের ব্যবস্থাও আল্লাহ করে দেবেন।

এছাড়া অন্য আয়াতে বলেন, لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
.
সালেহ (আ.) বলেন ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কেন করছ না, যাতে করে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’ 
(সূরা: নমল, আয়াত:৪৬)

যারা পেরেশানি, হতাশা, ডিপ্রেশন, sadness, loneliness ইত্যাদি নানা সমস্যার সম্মুখীন, তারা ইস্তেগফারকে ‘লাযেম’ করে নিন।
.
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেন,

‘যে ব্যক্তি নিজের জন্যে এস্তেগফারকে লাযেম করে নিল, আল্লাহ তায়ালা তাকে যে কোনো সংকটে পথ দেখাবেন। যে কোনো ধরনের পেরেশানী ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন। এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’
.
এখানেও খেয়াল করুন যে, ধরুন আপনি যদি এমন বিপদে আপতিত হয়ে থাকেন যে বের হবার কোন উপায়ই দেখছেন না, সেখানেও বের হবার পথ আল্লাহ তৈরী করে দিবেন ইস্তেগফারের মাধ্যমেই। 

অথবা আপনি ভাবছেন, চাকুরী নেই, ব্যবসা নেই, কিভাবে চলবেন, রিজিক আসবে কোথায় থেকে, সেটাও আল্লাহ বলছেন ইস্তেগফারের মাধ্যমে তিনি অকল্পনীয় সোর্স থেকে জীবিকা প্রদান করবেন। 
.
আপনি যদি কল্পনা করতে পারেন যে অমুক স্থান থেকে রিজিক আসতে পারে, তো আল্লাহ এর ওয়াদা মিথ্যে (নাউজুবিল্লাহ) কারণ আল্লাহ এর ওয়াদা যে তিনি আপনাকে এমন কোথাও থেকে রিজিক দিবেন তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। 
.
ইস্তেগফার এর মধ্যে উত্তম হলো:

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
 আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি

‘আমি আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকটই তাওবা করছি।’
[বুখারী (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১০১, নং ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং ২৭০২।নং ৬৩০৭; মুসলিম ৪/২০৭৫, নং ২৭০২]
.

ইস্তেগফারের ব্যাপারটাকে আমি এভাবে দেখি, যে ধরুন আপনার পা এ কাঁটা বিধেছে। কাঁটা না তুলেই কী কেবল মলম লাগালেই ব্যাথা উপশম হবে?

আমাদের মানুষের জীবনে যত ধরণের বিপর্যয় আসে সেগুলোর কোন কোনটা আমাদের ঈমানের পরীক্ষা আবার কোনটা কোনটা আমাদের স্বীয় পাপের কর্মফল। এই ব্যাপারে 

“জলে ও স্থলে যেসব বিপদ সংঘটিত হয়, সব মানুষের হাতের কামাই করা”। (সূরা রূম : ৪১)
.
তাহলে আমরা যদি পাপটা না সরিয়েই শুধু দুয়া করি তা কতটুকু ফলদায়ক ? কিন্তু মানুষ কি চাইলেই নিজের পাপ সরাতে পারে? সরানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ। আবার সব পাপ জানা নয়। কিছু পাপ অজানা। 

হয়ত কোনদিন কোন বন্ধুর সাথে মজা করেছি, এতে সে কষ্ট পেয়েছে, তার হক নষ্ট হয়েছে। সে শাস্তি আমি অন্যভাবে পাচ্ছি।  আমরা বুঝতে পারিনা ঠিক কোন পাপের কারণে আমাদের সাথে খারাপ হচ্ছে। 

তাই ইস্তেগফার পূর্বশর্ত। আগে কাঁটা টা সরানোর বন্দোবস্ত করি, ইন শা আল্লাহ তারপর মলম (দুয়া) সহজে কার্যকর হবে। 

©Shah Mohammad Tonmoy  

No comments

Powered by Blogger.