Header Ads

Header ADS

সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার বিধান

 সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার বিধান
.
শাইখ উমার মাহমুদ উসমান
--------------------------------------------
প্রচলিত সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়া যাবে কিনা এই প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয় শাইখ উমার মাহমুদ উসমানের কাছে। সেই প্রশ্ন এবং শাইখের দেয়া উত্তর সরাসরি দেয়া হল - 
.
প্রশ্ন: সম্মানিত শাইখ, যারা সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থা এবং এর বৈধতা প্রচার করে, তারা নতুন একটি সংশয় নিয়ে এসেছে যার উপর তাদের ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেছে।
এবং এই সংশয় একটি হাদিসের উপর ভিত্তি করে, যার উদ্ধৃতি নিম্নে উল্লেখ করছিঃ
রাসূল ﷺ এর স্ত্রী উম্মে সালামা বিনতে আবি উমাইয়া ইবনে আল-মুগাহিবাহ বলেনঃ “আমরা যখন আল-হাবসার যমীনে এসে পৌঁছলাম আমাদের নিরাপত্তা দিলেন সর্বোত্তম প্রতিবেশী, আল নাজ্জাশি। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা এরূপই ছিলাম (শান্তি এবং নিরাপত্তায়), যতক্ষণ না একজন তার সামনে এসে দাঁড়াল-অর্থাৎ, তার রাজত্বের বিষয়ে বিরোধিতা করল। আল্লাহ সাক্ষী, কখনও এত শোকাহত হইনি যা হয়েছিলাম সেই মুহুর্তে, ভয়ে যে সে কি নাজ্জাশিকে পরাজিত করবে, কারণ কোন লোক নাজ্জাশির মত আমাদের অধিকার প্রদান করবে না। তিনি বলেন, মাঝখানে ছিল নীল নদের প্রশস্ততা।
.
আল্লাহর রাসূল ﷺ এর সাথীরা বললেন, কে হবে সেই ব্যক্তি যে ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করবে এবং আমাদের জন্য সংবাদ নিয়ে আসবে? জুবায়ের বিন আওয়াম বললেন, আমি যাবো। তিনি ছিলেন স্বল্প বয়স্কদের একজন। তাঁর জন্য একটি ঢালা প্রস্তুত করা হল। সেটিকে বুকের নিচে দিয়ে তিনি সাঁতরাতে লাগলেন, যতক্ষণ না নীল নদের সেখানে পৌঁছলেন যেখানে লোকেরা জড়ো হয়েছিল। তিনি ততদূর ভিতরে গেলেন, যেখান থেকে তিনি তাদের দেখতে পাচ্ছিলেন। উম্মু সালামা বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে নাজ্জাশির জন্য দু‘য়া করতে লাগলাম, যাতে তিনি শত্রুর উপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারেন এবং শত্রুর উপর বিজয়ী হতে পারেন। আমরা তার সাথে উত্তম পরিবেশে ছিলাম, যতক্ষণ না আমরা রাসূল ﷺ এর কাছে ফিরে এলাম, রাসূল ﷺ তখন মক্কাতে ছিলেন।”
(আহমাদ, আল-বায়হাকী)
.
তাদের মতে এটিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার কারণ হচ্ছে, নাজ্জাশি তখন কাফের থাকার পরও তাঁরা আল্লাহর কাছে দু‘য়া করেছিলেন, যাতে সে যমীনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় আর যদি দু‘য়া হয়ে থাকে সর্বোচ্চ সমর্থন, তাহলে ভোটদানের মত আরও অনুরূপ বিষয়গুলো আরও বেশী গ্রহণযোগ্যতার দাবি রাখে। অতঃপর তারা বলে, যদি তোমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষেধ কর, তাহলে কি কোন ব্যক্তিকে ভোট দেয়ার বদলে তার জন্য এই দু‘য়া করা বৈধ যে এই সংসদে আসন পায়? প্রথমদিকে এরূপভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে আপনার মতামত চাচ্ছি এবং এই সংসদীয় নির্বাচনে ভোটদান যারা অনুমোদিত মনে করেছেন, তাদের সাথে আমাদের সঠিক অবস্থান কি হবে?
জাযাকাল্লাহু খায়ের।
.
উত্তরঃ 
সাফল্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার পক্ষ হতে আর আমার বক্তব্য হচ্ছে নির্বাচনের বিষয়টা হচ্ছে একটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, আধুনিক এবং নতুন ঘটনা থেকে উদ্ভুত হওয়া একটি বিষয়।
.
কোন বিষয় ফাতওয়া দেওয়ার পূর্বে সেটিকে প্রণিধান করা আবশ্যক এবং বিষয়টির সঠিক মূলে  ফিরে যাওয়া এবং মুফতি অথবা বক্তার কল্পনা অনুযায়ী নয়; বরং  (যে এটি উদ্ভাবন করেছে এবং ব্যবহার করেছে)  তার পরিভাষা অনুযায়ী বিহিত করা জরুরী। তাই প্রথমেই আমাদের জানা প্রয়োজন যারা এই বিষয়টি উদ্ভাবন করেছে এবং যারা এটি ব্যবহার করছে তাদের কাছে নির্বাচনের বিষয়টি কিরূপ? তারপর আমাদের জানতে হবে এই বিষয়ের উপর মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার বিধান কি, আলিমগণ যা জানেন সেই অনুযায়ী ইজতিহাদের পদ্ধতি কি অথবা আলিমদের মতামতই বা কি?
.
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, নির্বাচনের বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন সংশয় সৃষ্টি করছে এবং এটি জানা কথা যে, এই সংশয় বাস্তবে কখনও শেষ হবে না।
.
 মানুষ এটি নিয়ে অনেক কথা বলেছে এবং সুদৃষ্টি সম্পন্ন প্রতিটি ব্যক্তির নিকট এটা স্পষ্ট যে, এই নির্বাচনের বিষয়টিকে একটি যন্ত্র অথবা মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে দেখা হয় সেই ভিত্তির উপর যা হতে তা উৎসারিত। যার অর্থ হচ্ছে, একটি আক্বীদাহ অথবা মূলনীতির বাস্তবিক প্রতিফলন অথবা যেভাবে তারা আজকে বলছে যে, এটি একটি ভাবাদর্শ।
.
সুতরাং এটিই হচ্ছে মূল বিষয়। তাই আমরা যদি ভিত্তিটা বুঝতে পারি তাহলে সেই সময়ে এর শাখা-প্রশাখাকে বুঝতে আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। কিছু আলোচনা আমি প্রায়ই শুনে থাকি শুধু নির্বাচনের বিষয়ে, অন্য কথায়, এটিকে আলাদা করে, বাস্তবতা হতে অনেক দূরে রেখে এবং এর মূল থেকে অনেক দূরে রেখে কিছু আলোচনা।  এটি হচ্ছে গোপন করা এবং তা মন্দের মধ্যে শামিল । আরো যথাযথভাবে বলা যায় যে, এটা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি।
নির্বাচন হচ্ছে একটি মাধ্যম। কিন্তু তা কিসের মাধ্যম?  কি হতে উৎসারিত এই মাধ্যম?
.
যা জানা যায় তা হচ্ছে ব্যবস্থা সম্পর্কে, সেই ব্যবস্থা যাকে বলা হয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। এবং যা অধিকার দেয়, সিয়াদাহ (সার্বভৌম কর্তৃত্ব, হুকুম, নিয়ন্ত্রণ, প্রভুত্ব, আধিপত্য, বিধান নির্ধারণ) দেয় মানুষকে। শাসনতন্ত্র বিজ্ঞান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান থেকে জানা যায় যে, সিয়াদাহ হচ্ছে সর্বোচ্চ পরিপূর্ণ কর্তৃত্ব যার উপর কোন কর্তৃত্ব নেই। যার অধিকার আছে আইন প্রণয়নের – এটিই হচ্ছে সিয়াদাহ। তারা বলে সিয়াদাহ হচ্ছে মানুষের জন্য, সিয়াদাহ জাতির জন্য।
.
তাই এই সিয়াদাহ যা হতে উৎসারিত হয় - আইন প্রণয়নের অধিকার, আইন প্রণয়নের কর্তৃত্ব, বিচারের কর্তৃত্ব, অতঃপর কার্যকরণের কর্তৃত্ব - তাহলে এগুলো মানুষের ইচ্ছের ভিত্তিতে হতে হবে। এবং তার উপর ভিত্তি করে হতে হবে, যা মানুষ চায় এবং সমর্থন করে।
.
গণতন্ত্র দুটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত। সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সংখ্যালঘুর উপর ভিত্তি এবং সংখ্যালঘুর অধিকার লড়াই এবং বিতর্কের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠে পৌঁছানো। সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকার হচ্ছে শাসন করা, আইন প্রণয়ন করা এবং বিষয়গুলো কার্যকরী করা এবং সিদ্ধান্তগুলো পরিচালনা করা। এটিই হচ্ছে গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই আমরা যেভাবে দেখি এটি সিয়াদাহ-এর অর্থকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
.
সেক্ষেত্রে নির্বাচন হচ্ছে মানুষের ইচ্ছের প্রতিফলন। কিভাবে আমরা জানবো মানুষের কি ইচ্ছে? তারা সেটা প্রকাশ করে নির্বাচন এবং ভোটদানের মাধ্যমে।
সুতরাং ভোটদান হচ্ছে মানুষের ইচ্ছের কথা জানানোর একটি মাধ্যম, যেখানে তাদের নিজেদের  অধিকার থাকবে আইন প্রণয়নের তথা সিয়াদাহর, যে সংসদীয় ব্যবস্থায় বর্তমানে আমরা আছি। তাই সংসদ হচ্ছে সেই কেন্দ্র যেখান থেকে অনেক বিষয় আসে, যার মধ্যে সর্বপ্রথম হচ্ছে আইন প্রণয়ন। অন্য কথায় বলতে গেলে, কোন কিছুকে হালাল মোড়ক দেয়া অথবা কোন কিছুর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া। এটিই হচ্ছে আইন প্রণয়নের (তাশরি) অর্থ। আইন প্রণয়নের মানে কোন কিছুকে হালাল ঘোষণা করা এবং  তার উপর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার আইন অথবা কোন কিছুকে হারাম ঘোষণা করা এবং তার অনুমতি ছিনিয়ে নেয়া।
.
মানুষের দ্বারা নির্বাচিত এই কেন্দ্রের অধিকারের মধ্যে পড়ে আইন প্রণয়ন। এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার অধিকার, তাঁর প্রভুত্বের (উল্যুহিয়্যাত) সাথে সাংঘর্ষিক। কারণ, উল্যুহিয়্যাহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার এই হুকুমের অর্থ ব্যতীত সম্পূর্ণ নয় - 
.
“নিশ্চিতভাবেই সৃষ্টি তাঁর”
এটিই হচ্ছে তাঁর কর্তৃত্ব (রুবুবিয়্যাত)।
.
“সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁর।” 
আর এটিই হচ্ছে উলুহিয়্যাত।
.
এবং যিনি ইলাহ, তিনিই হুকুম দেন। তাই আমরা যদি তর্ক করি, স্বতন্ত্রভাবে একজনকে হুকুম দেয়ার অধিকার আছে বলেই বর্ণনা করি, তবে সেটিই হবে আস-সাইয়্যিদ, যাকে আনুগত্য করা হয়। যেমনটি ইবনে আব্বাস বলেন (মহান আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন) যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালা বলেনঃ
“বলঃ তিনিই আল্লাহ, তিনি এক, একক।” 
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালা বলেন, আস-সাইয়্যিদ আল-মুতা (যাকে আনুগত্য করা হয়)। আস-সাইয়্যিদ, যার কোন হুকুমকে অবহেলা করা যায় না, আল-মুতা, যার আদেশ কেউ অমান্য করতে পারে না।
.
তাই এখন আমরা সংসদকে আস-সাইয়্যিদ হিসেবে বুঝি, অন্য কথায় ইলাহ হিসেবে। এবং এই নির্বাচন প্রতিনিধিত্ব করে সাইয়্যেদকে নির্বাচিত করার জন্য। এটাই যা তারা বুঝে, ইলাহ নির্বাচন।
.
গণতন্ত্রের পুত্ররা এভাবেই ব্যাপারটাকে বুঝেছে এবং এর অনুসারীরা এভাবেই এতে সম্মতি জানিয়েছে। 
.
সংসদ একটি আইন প্রণয়নের কেন্দ্র এবং একটি তত্ত্বাবধায়নের সংস্থা এবং এর আছে প্রভুত্বব্যঞ্জক দায়িত্ব। উদাহরণস্বরুপ, কিছু ব্যবস্থায় দেখা যায়, যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, অধিকার থাকে মন্ত্রীদের  নিয়োগের এবং সেখান থেকে কর্তৃত্ব প্রয়োগের।
.
এগুলো হচ্ছে প্রথম বিষয় হতে মধ্যম বিষয় যা হলো আইন প্রণয়নের অধিকার, যাদের এই অধিকার রয়েছে এবং যে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
.
তাহলে নির্বাচন কি?  নির্বাচনের অর্থ হচ্ছে যে কোন কিছুকে হালাল এবং হারাম ঘোষণার ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের জন্য আমার ইচ্ছের প্রতিফলনে একজন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে আমি তার উপর সন্তুষ্ট। এবং এটি সুস্পষ্ট যে, তা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র” সাথে সাংঘর্ষিক এবং সাংঘর্ষিক সেই মুসলিমের ইচ্ছের সাথে যে বলে, আমি নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যে উপস্থাপন করছি উল্যুহিয়্যার মধ্য দিয়ে। অন্য কথায়, আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আমি অন্য কাউকে গ্রহণ করি না, আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালা ব্যতীত অন্য কাউকে আইনদাতা হিসেবে গ্রহণ করি না। আমি আমার উপর কোন শাসককে গ্রহণ করি না, এই অর্থে শাসক বলতে সে নয় যে শাসন করে বরং আল্লাহ ব্যতীত যে হুকুম প্রণয়নের অধিকার রাখে। সমসাময়িক অনেকেই এটাকে সঠিক বলে আখ্যায়িত করে থাকেন হাকিমিয়্যাহ হিসেবে।
.
অতঃপর তারা কেন এই বিষয়ে বিতর্ক করে? কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক করা হয়?
.
আমরা কি এখন কাফিরকে সাহায্য করার বিষয়ে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে কথা বলছি?
.
আমরা কি এখন একজন কাফিরের পতাকার নিচে থেকে আরেকজন কাফিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি প্রদানের বিষয়ে কথা বলছি?
.
তাহলে কেন আলোচ্য বিষয় থেকে সরে যাওয়া হচ্ছে?
.
যে বিষয়টি আমাদের সামনে আছে তা হলো, একজন ব্যক্তি তার রব (ইলাহ), প্রভু (সাইয়্যেদ), আইনদাতা (মুশারি) বেছে নিচ্ছে। যে এই বিষয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত হবার অনুমতি দেয়, সে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার এ দ্বীনে অনেক বড় কিছু নিয়ে এসেছে।
.
কারণ, যে কোন প্রয়োজনের উপর দ্বীনের প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেহেতু এই ব্যাপারে ঐকমত আছে। দ্বীন প্রয়োজনীয়তার উপর অন্য কোন প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেয়া যাবে না, যেমন বলেছেন আশ-শাতিবি (রহ.)। কারণ, প্রয়োজন বিভিন্ন পর্যায়ের হয়, এবং দ্বীনি প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দিতে হয়, যেকোন প্রয়োজনের আগে এটাকে স্থান দিতে হয় আগে, নিজের স্বকীয়তা (নাফস) থেকে, ধন-সম্পদ (মাল) থেকে, সম্মান (আল-ইরদাহ), সন্তান-সন্ততি থেকে, এই সবকিছুর শেষ পর্যন্ত থেকে।
.
আমাদের সামনে এখন যে প্রশ্ন, যা আমরা দেখতে পাচ্ছি, তা হলো সাহায্য করার বিষয়ে আলোচনা; একজন কাফিরের বিরুদ্ধে আরেকজন কাফিরকে সাহায্য করার অনুমতির ব্যাপারে।
.
 এ ক্ষেত্রে রায় হলো যে, কাফিরকে সহযোগিতা করা যাবে না। যদি কতিপয় আলিমগণ এক কাফিরের বিরুদ্ধে আরেক কাফিরকে সহযোগিতা করা অনুমতিযোগ্য দেখে এজন্য যে, এর মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য কোন সুফল রয়েছে। তাহলে সেই বিষয়টি ফিকহার গন্ডির অন্তর্ভুক্ত। কারণ তা রায়কে বাতিল করে দেয় না। অন্যদিকে, যারা একজন মুসলিমের বিরুদ্ধে কাফিরকে সহযোগিতা করা অনুমতিযোগ্য এরূপ ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে, আমি তাদের  সেই সকল ফুকাহাদের অন্তর্ভুক্ত করব, যারা এই ফতোয়া দেয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে অবিশ্বাস করেছে। উদাহরনস্বরূপ, যারা আমেরিকাকে সহযোগিতা করার জন্য তালেবানদের বিরুদ্ধে অনুমতি দিয়েছে।
.
 এটি অবশ্যই অনুমদনযোগ্য নয়। কারণ সহযোগিতা মৌলিকভাবে আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত এবং আনুগত্য কেবলই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘য়ালার, তাঁর রাসূল ﷺ এবং ঈমানদারদের জন্য। কাফিরদের প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক।
.
তাহলে আমাদের সামনে এমন একটি বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে, ফিকহর কিছু কিতাবে যার উল্লেখ রয়েছে। যেমনটি বলা যায় আল-হায়ছামি উল্লেখ করেছেন, আশ-শাফি থেকে, তাঁর আল ফতোয়া আল হাদিছিয়া তে। তিনি এই কিতাবে কোন সুফল অর্জনের উদ্দেশ্যে এক কাফিরের বিরুদ্ধে আরেক কাফিরকে সাহায্য করা  অনুমতিযোগ্য কি না এই বিষয় তুলে ধরেছেন এবং এই সম্পর্কিত আলিমগণের কিছু উক্তিও উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই বিষয়টি হলো ফিকহের বিষয়।
.
অনেকে বলতে পারে “আমি তার আনুগত্য স্বীকার করলাম।” না, বরং প্রকৃতপক্ষে সে তার আনুগত্য স্বীকার করছে না, বরং শুধু নিজেরই আনুগত্য করছে …।
.
সুতরাং এটিকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা, কারও বক্তব্য বা কোন প্রশ্ন হিসেবে ব্যবহার করাতে কিছু সমস্যা প্রতীয়মান হয়। বাস্তবিকতায়, উক্ত প্রশ্নতেও কিছু ভুল লক্ষণীয়। যেমনটি তার বক্তব্য যে, দু‘য়া হলো সমর্থনের সর্বোচ্চ স্তর, এটি মোটেও সঠিক নয়। কারণ, রাসূল ﷺ দু‘য়া করেছিলেন উমার (রাঃ) এর জন্য যখন তিনি বলেছেন, “হে আল্লাহ! ইসলামকে ইজ্জাত দাও দুই উমারের যে কোন একজনকে দিয়ে,  হে আল্লাহ! ইসলামকে ইজ্জাত দাও দুই উমারের মাধ্যমে।” আরেক রেওয়াতে যার ভিত্তি সহীহ, যদিও বা শব্দসমষ্টি ভিন্ন।
.
সুতরাং তার জন্য দু‘য়া করা কি ইসলামে সমর্থিত? এই বক্তব্য যে, দু‘য়া যে কোন দৃষ্টিতে হলো সমর্থনের সর্বোচ্চ স্তর, একটি মিথ্যে (বাতিল) বক্তব্য। যখন আমরা দু‘য়া করি কাফির পথপ্রদর্শনের জন্য, তখন আমরা আসলে ইসলামেরই আনুগত্য স্বীকার করি। ঠিক তেমনি, তারা সেই কাফিরের (নাজ্জাশি) তার কাফির শত্রুদের উপর বিজয়ের জন্য দু‘য়া করেছিলেন, এই জন্য যে, তারা বিশ্বাস করত যে, এই সমর্থনে মুসলিমদের সুফল হবে।
.
এই বিষয় হলো কর্মের সাথে সম্পর্কিত এবং একটি আক্বীদাহ সম্পর্কিত বিষয়ের সামনে তা একটি গৌণ বিষয়। সুতরাং আমরা এর উপর অটল থাকার আশা করি।
(শাইখের উত্তর সমাপ্ত)
.
আশা করি এই আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেয়ার অর্থ কি দাঁড়ায়, আমাদের আসলেই ভোট দেয়া উচিত কিনা। যারা এখনো দুনিয়াবী উপকার বা তথাকথিত মন্দের ভালোর ভিত্তিতে চিন্তা করছি, তাদের আহবান করব আপনারা আবারো সুস্থিরভাবে চিন্তা করুন, নিশ্চিতভাবেই দ্বীনি ও ঈমানী প্রয়োজন থেকে বড় কোনো প্রয়োজন হতে পারে না।

No comments

Powered by Blogger.